টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মাহমুদউল্লাহ

সাদা পোশাকের  ক্রিকেটে আজই হতে যাচ্ছে মাহমুদউল্লাহ শেষ দিন। ৫০ তম টেস্ট খেলেই মাহমুদউল্লাহ বিদায় জানাতে যাচ্ছেন টেস্ট ক্রিকেটকে।আজ টেস্টের শেষ দিন সকালে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নামার সময় মাহমুদউল্লাহ পেলেন সতীর্থদের গার্ড অব অনার।টিম ম্যানেজমেন্টের একাধিক সদস্য কাল রাতেও এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে টেস্টের তৃতীয় দিনে দলের বা বোর্ডের কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই ড্রেসিংরুমে সতীর্থ খেলোয়াড়, কোচ ও দলের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মাহমুদউল্লাহ জানিয়ে দেন, চলতি হারারে টেস্টের পর আর সাদা পোষাকের ক্রিকেট খেলবেন না তিনি। টেস্টে নিজের আরো একবার নিজের সামর্থ্য দেখানোর ছিল তাঁর। সেঞ্চুরি করে সেটি দেখিয়ে দিয়েছেন। কাজেই এবার বিদায়ের পালা। এ বিষয়ে দলের কেউ পরে মুখ না খুললেও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে সে রাতেই বলেছিলেন, ঢাকা থেকে তিনিও এরকম একটা কিছু শুনেছেন।

মাহমুদউল্লাহর এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন নাজমুল হাসান। জিম্বাবুয়ে আসার আগে অন্য ক্রিকেটারদের মতো মাহমুদউল্লাহও নাকি বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। জাতীয় দলের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক নাকি সেখানে লিখেছেন, ভবিষ্যতে তিনি তিন সংস্করণের ক্রিকেটই খেলতে চান। সে জন্যই তাকে জিম্বাবুয়ের টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া একটা টেস্টের মাঝখানে অবসরের কথা বলে মাহমুদউল্লাহ ঠিক করেননি বলেও মন্তব্য করেন বিসিবি সভাপতি।

এরপর গতকাল বেশ কয়েকবারই মাহমুদউল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপার দলের ভেতর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়েরা এ নিয়ে কোনো কথা বলতে না চাইলেও দলের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে আর কোনো আলোচনা নেই। মাহমুদউল্লাহও কিছু বলছেন না, দল থেকেও তাকে আর এ নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করা হচ্ছে না। অবসরের গুঞ্জন নিয়ে মাহমুদউল্লাহ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না, জানানো হয়েছিল তেমনটাও। এ নিয়ে যদি তার কোনো কিছু বলার থাকে সেটা নাকি ঢাকা গিয়ে বোর্ডের সঙ্গেই বলবেন। কাজেই অন্তত হারারেতে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন না মাহমুদউল্লাহ, জানিয়েছিল দলের একাধিক সূত্র।

৫০ টেস্টের ক্যারিয়ারে  ৩৩.৪৯  গড়ে মাহমুদউল্লাহ  মোট রান ২৯১৪। সেঞ্চুরি ৫টি ও ফিফটি ১৬টি এবং বল হাতে নিয়েছেন ৪৩টি উইকেট।

হারারে টেস্টের আগে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন মাহমুদউল্লাহ। জাতীয় দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এরপরই তাঁকে জানিয়ে দেন, মাহমুদউল্লাহ যেন টেস্ট খেলার চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু সাদা বলের ক্রিকেটেই মনোযোগ দেন। এরপর বাংলাদেশ দলের টানা পাঁচটি টেস্টে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন না। প্রথমে ছিলেন না জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলেও। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের চোটের কারণে পরে তাকে দলভূক্ত করা হয়।

ব্যাট হাতে বঞ্চনার জবাবটা ভালোভাবেই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। হারার টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে বাধ দিয়ে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরি আজ শেষ দিনে জয়ের স্বপ্নই দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.