আবারো ওয়াসাতে ব্যয় বাড়লো

ওয়াসার চলমান ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টিই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। এই প্রকল্পগুলোর অনুমোদিত খরচের বাইরে আরও ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। আট প্রকল্পের চারটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। চারটির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্পের একটি ২০২৩, অন্যটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সাত বছরে মাত্র ৩৯ ভাগ কাজ করেছে ওয়াসা। এ অবস্থায় আড়াই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সঙ্গে প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয় ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। এখন আরও আড়াই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ওয়াসা।কিন্তু এগুলোর একটির কাজ ২৩ ভাগ এবং আরেকটির মাত্র ৭ ভাগ হয়েছে। এই ১০ প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৬ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।

নগরবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আকতার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর নতুন একটি ধারা তৈরি হয়েছে। এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য না। তিনি বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই সঠিকভাবে করতে হবে। অনুমোদনের পর প্রকল্পের খরচ আর বাড়ানো যাবে না—সরকারের এখনই এমন নিয়ম চালু করা উচিত।

২০১৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রকল্পে ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে এটি এখন ৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রকল্পের একজন প্রকৌশলী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা এখনো কাটেনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবার প্রকল্প ব্যয় আর বাড়ানো হচ্ছে না।

৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ফ্রেঞ্চ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এএফডি), জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, দ্য ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ও ডানিডা। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ। এই গতিতে কাজ চললে প্রকল্পটি কবে শেষ হবে বলা মুশকিল।এ প্রকল্পের মাধ্যমে গুলশান, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার পয়োবর্জ্য পরিশোধন করে বালু নদে ফেলার কথা।

ঢাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নয়নের দুই প্রকল্পের গতি কচ্ছপের গতিকেও হার মানিয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর পরও একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৩২ শতাংশ এবং আরেকটির মাত্র ৭ শতাংশ।

৫৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৩২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ব্যয় হয়েছে ১৩৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা।

এ অবস্থায় গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব (খাল ও ড্রেনেজ) দুই সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হয়। সে অনুযায়ী ড্রেনেজ-সংক্রান্ত ঢাকা ওয়াসার জনবল ও সম্পদ দুই সিটি করপোরেশনের কাছে চলে যাবে।

মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, মিরপুর ১, মাতুয়াইল, উত্তরা ও মিরপুর ১০—এই সাত এলাকার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন। ৩ হাজার ১৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের এপ্রিলে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। গত এপ্রিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.