অজি লায়ন

টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ উইকেটশিকারি শেন ওয়ার্ন মনে করেন লায়ন আরও বেশ কয়েক বছর খেলতে পারলে সর্বোচ্চ এ উইকেটশিকারির তালিকায় শীর্ষে থাকবেন। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মুরালি রবিচন্দ্রন অশ্বিন কে এগিয়ে রঅখছেন।

স্পিনে তাঁর প্রতিভা চিনেছিলেন বিগ ব্যাশের কোচ ড্যারেন বেরি। ক্যানবেরা থেকে অ্যাডিলেডে এসেছিলেন মাঠকর্মী হয়ে। সেখানেই লায়নের অফ স্পিন ধরা পড়ে বেরির রাডারে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ভালো করলেন, এর প্রথম শ্রেণিতে অভিষেকের সাত মাস পর ডাক পড়ল টেস্ট দলে, ২০১১ শ্রীলঙ্কা সফরে। অস্ট্রেলিয়াও তখন শেন ওয়ার্নের শূন্যতা পূরণে মরিয়া। ‘জাদুকর’-এর প্রস্থানের পর ১১জন স্পিনার পরখ করেছে অস্ট্রেলিয়া, এমনকি ব্যাটসম্যানকে (স্মিথ) দিয়েও করিয়েছে স্পিন। কিন্তু মনের মতো মেলেনি, লায়ন মিলিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত।

টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৪ বছরের ইতিহাসে ন্যূনতম ১০০ টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়েছে ৬৮ ক্রিকেটারের। লায়ন তাঁদের সর্বশেষ ও ১৩তম অস্ট্রেলিয়ান। শুধু শেন ওয়ার্ন ও লায়নই বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ন্যূনতম ১০০ টেস্টের দেখা পেলেন। অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল ক্লার্ক ও ডেভিড বুনদের ব্যাটসম্যান পরিচয়টা হাত ঘোরানো ছাপিয়ে গেছে।

টেস্টে ন্যূনতম ১০০ ম্যাচ খেলা শীর্ষ পাঁচ স্পিনারের একজনও লায়ন। এর মধ্যে লেগি দুজন—শেন ওয়ার্ন ও অনিল কুম্বলে। অফ স্পিনার তিনজন মুরালিধরন, হরভজন ও লায়ন। অফ স্পিনারদের মধ্যে উইকেটসংখ্যায়ও মুরালির পর যথাক্রমে হরভজন (৪১৭) ও লায়ন (৩৯৭)। ব্রিসবেনে আজ রোহিতকে তুলে নিয়ে চার শ-এর পথে শেষ চার ধাপের যাত্রা শুরু হয়েছে লায়নের, যার শুরুটাও ছিল ‘কীর্তিমান’ খাতায় নাম তুলে। ৯ বছর আগে সাঙ্গাকে তুলে নিয়ে টেস্টে প্রথম বলে উইকেট পাওয়া ২০ জন চরম সৌভাগ্যবানদের একজন!

মার্ক ওয়াহর মতে, বেশির ভাগ সময় ‘তারকা ইমেজের বাইরে থেকেই শততম টেস্ট খেলছেন লায়ন।’ অথচ হিউ ট্রেম্বলের ১৪১ উইকেট টপকে যাওয়ার পর থেকেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া অফ স্পিনার। অনেকে তাই বলেন ‘গোট’ (গ্রেটেস্ট অব অলটাইম)।

লায়নের ৩৩ বছর বয়স নিয়ে মাথাব্যথা থাকতে পারে অনেকের। কিন্তু স্পিনাররা সম্ভবত এ সময়েই সবচেয়ে পরিণত হন। সে পথে টেস্টে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের ভালোই ভুগিয়েছেন লায়ন। বিরাট কোহলিকে যেমন টেস্টে সাতবার আউট করেছেন, যা পারেননি আর কেউ। আবার কোহলিদের মাটিতে গিয়ে সফরকারি দলের বোলারদের মধ্যে ইনিংসে দুবার ৭ উইকেট নেওয়া বোলারও লায়ন।

লায়নের ভাষায়, বাবা আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। খবরটা শুনে কাঁদতে থাকা তাঁর মা, দাদী ও হতবাক ভাইয়ের মতো আবেগের দুয়ার খুলে দিতে পারেননি। যেমন সহসা পারছেন না শেন ওয়ার্নও। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শততম টেস্ট খেলা স্পিনারের তালিকায় সতীর্থ হিসেবে এত দিনে কাউকে পেয়ে ওয়ার্নের আহ্লাদিত হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু লায়নকে এখনই পরের কাজটা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ওয়ার্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.