মেসির নতুন রেকর্ড

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে  গোল করে পেলের রেকর্ডটা ছুঁয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বড়দিনের আগে বার্সেলোনার সর্বশেষ ম্যাচে কাল রিয়াল ভায়াদোলিদের মাঠেই সান্তোসের জার্সিতে পেলের ৬৪৩ গোল ছাপিয়ে গেলেন মেসি, বার্সার জার্সিতে করলেন নিজের ৬৪৪তম গোল।

এই মৌসুমে বার্সার ডাগআউটে এসেই ক্লাবের চিরায়ত ৪-৩-৩ ছক ভেঙে ৪-২-৩-১ ছকে দলকে খেলানো শুরু করেন রোনাল্ড কোমান। কিন্তু তাতে সাফল্য যে আসছিল না, তা তো মৌসুমের শুরুতেই বার্সার দুরবস্থা বলে। কাল সেই ছক ভেঙে দলকে ৩-৪-২-১ ছকে খেলান কোমান। ছক বদলানো তো বড় ব্যাপারই, আলোচনার বিষয় হয়ে এসেছে ফিলিপে কুতিনিও, আন্তোনিও গ্রিজমান ও সের্হিও বুসকেতসকে একাদশে না রাখাও।

তিন সেন্টারব্যাক হিসেবে কোমান খেলিয়েছেন রোনাল্ড আরাউহো, অস্কার মিঙ্গেসা ও ক্লেমঁ লংলেটকে। তাই দুই উইংব্যাক সের্হিনিও দেস্ত ও জর্দি আলবা বারবার আক্রমণে ওঠার স্বাধীনতা পেয়েছেন। মাঝমাঠে মিরালেম পিয়ানিচের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। তাঁদের সামনে মেসির সঙ্গে তরুণ পেদ্রি, আর সবার সামনে মার্টিন ব্রাথওয়েইট। লিগের পয়েন্ট তালিকায় ১৮তম ভায়াদোলিদের বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে হয়তো এই ছকের সাফল্য-ব্যর্থতা মাপা যায় না—ধারে-ভারে বড় প্রতিপক্ষের সামনে এই ছকে বার্সা কেমন খেলে তা দেখার বিষয় হবে, তবে এই ছকে কাল দারুণ খেলেছে বার্সা।

মৌসুমে তাঁর সেরা রূপে দেখা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল, কাল ভায়াদোলিদের মাঠে চেনা রূপেই দেখা দিলেন মেসি। ম্যাচের পর ভায়াদোলিদ থেকেই প্রাইভেট প্লেনে করে আর্জেন্টিনায় উড়ে গেছেন বড়দিনের ছুটি কাটাতে, তার আগে বার্সা ভক্তদের উপহার দিয়ে যাওয়া পারফরম্যান্সই ছিল তাঁর। গোল করেছেন, করিয়েছেন। নতুন ছকে নামা বার্সাও দারুণ খেলে জিতেছে ৩-০ গোলে। প্রতিপক্ষের মাঠে লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচে তিন হার ও এক ড্রয়ের পর এই জয় পেল বার্সা।

উইংব্যাক হিসেবে ডান দিকে ডেস্ট দারুণ খেলেছেন, মাঝমাঠে আলো ছড়িয়েছেন ডি ইয়ং, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে মেসির সঙ্গে পেদ্রির সমন্বয় তো দিনে দিনে আরও বেশি আলো ছড়াচ্ছে। আর মেসি কেমন খেলেছেন? বলতে গেলে বার্সার প্রতিটি আক্রমণই প্রাণ পেয়েছে তাঁর পায়ে।

২১ মিনিটে লংলের গোলটি এসেছে মেসির দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে। ৩৫ মিনিটে ব্রাথওয়েইটের গোলটিতে ‘অ্যাসিস্ট’ মেসির নয়, ডান দিক থেকে দেস্তের ক্রসে পা ছুঁইয়ে গোলটা করেছেন ব্রাথওয়েইট…কিন্তু দেস্তের জন্য প্রতিপক্ষের রক্ষণমুখ খুলে দিয়েছেন মেসিই। শুধু তাঁর গোলটাই বাকি ছিল।

৭ মিনিটেই গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন মেসি, কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁকানো শট পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। দুই মিনিট পর তাঁর রক্ষণচেরা থ্রুতে জর্দি আলবা পা ছোঁয়াতে পারলে তখনই এগিয়ে যেত বার্সা। ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে পেদ্রির সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর মেসির শট বারের ওপর দিয়ে পার করে দেন ভায়াদোলিদ গোলকিপার মাসিপ।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ মিনিটে অবশ্য মেসি নয়, গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রাথওয়েইট। বাঁ দিক থেকে আলবার ক্রস ঠিকভাবে পা ছোঁয়াতে পারলেই নিজের দ্বিতীয় ও বার্সার তৃতীয় গোলটি পেয়ে যেতে ড্যানিশ স্ট্রাইকার। কিন্তু তাঁর শটটা ঠিকঠাক হয়নি, বল চলে যায় বাইরে। আট মিনিট পর আবার মেসির শট ঠেকিয়ে দেন ভায়াদোলিদ গোলকিপার।

কিন্তু মেসি আর বার্সার অপেক্ষা এরপর আর বেশিক্ষণ থাকেনি। ৬৫ মিনিটে আরেকবার মেসির সঙ্গে পেদ্রির সমন্বয়ের সুফল পেল বার্সা। বক্সের বাইরে দুজনের ওয়ান-টু, পেদ্রির চোখধাঁধানো ব্যাক ফ্লিক ধরে বক্সে ঢুকে যান মেসি। এবার আর মেসির বাঁ পায়ের শট ঠেকানোর সাধ্য ছিল না ভায়াদোলিদ গোলকিপারের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *