অসস্তিতে সালাহ

স্প্যানিশ মিডিয়া সর্বোচ্চ দু-এক দিন এ নিয়ে বেশ আলোড়ন তোলার চেষ্টা করত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসম্ভব এক দলবদল বলেই এ গুঞ্জন ধামাচাপা পড়ে যেত। কিন্তু শনিবার লিগের ম্যাচে সালাহকে মূল একাদশে রাখেননি লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। আর তাতেই সবাই এ নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পাচ্ছেন। লিভারপুলে নাকি সালাহর দিন ঘনিয়ে এসেছে, লিভারপুল তাঁকে বিক্রি করে দিতে চায়। মিশর জাতীয় দলে সালাহর সাবেক সতীর্থ মোহামেদ আবুত্রিকাও সালাহকে নিয়ে শুরু হওয়া গুঞ্জনের পালে হাওয়া দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে স্প্যানিশ দৈনিক এএসের কাছে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মোহামেদ সালাহ। ফুটবল, ইংল্যান্ডের জীবন, তাঁর ক্যারিয়ার—সবকিছু। আর বড় তারকা মানেই স্প্যানিশ পত্রিকার প্রশ্ন, বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদে কখনো যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? ফুটবল বিশ্বে কয়জন ফুটবলার বলবেন এ দুই দলের প্রতি আগ্রহ নেই? সালাহও ব্যতিক্রমী কিছু করেননি। তাই বলেছেন, একদিন হয়তো এ দুই ক্লাবে তাঁকে দেখা যেতেও পারে।

ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে লিভারপুলের ৭-০ গোলে জেতা ম্যাচে মূল একাদশে জায়গা না পেলেও আলোচনায় ঠিকই ছিলেন সালাহ। বদলি নেমে প্রথমে ফিরমিনোকে দিয়ে গোল করিয়েছেন, পরে নিজেও করেছেন দুই গোল। পরে সালাহকে বেঞ্চে কেন রাখা হলো, এ প্রশ্নের উত্তর হাসতে হাসতেই দিয়েছেন ক্লপ। বলেছেন, টানা চার ম্যাচ খেলা সালাহকে বিশ্রাম দেওয়ার সময় পাচ্ছিলেন না। ক্রিস্টাল প্যালেস ম্যাচটাই তাঁর কাছে ভালো সুযোগ মনে হয়েছিল।

ওদিকে সালাহ শুধু রিয়াল বা বার্সায় যাওয়া নিয়েই কথা বলেননি, ক্লপের ব্যাপারে হতাশার কথাও জানিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মূলত তরুণদের নামিয়েছিলেন ক্লপ। অভিজ্ঞতার ছাপ রাখার জন্য মাঠে ছিলেন সালাহ। এমন ম্যাচে অধিনায়ক হবেন, এমন আশা নিয়েই নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু ২৮ বছর বয়সী সালাহ নয়, লিভারপুলে জন্ম নেওয়া ২১ বছর বয়সী ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ডই পরেছেন আর্মব্যান্ড। এ ঘটনায় যে হতাশ হয়েছেন, সেটা এএসের কাছে স্বীকার করে নিয়েছেন সালাহ। এরপরই ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাচে একাদশে দেখা যায়নি তাঁকে। দুইয়ে–দুইয়ে চার মিলিয়ে লিভারপুলে সালাহ সুখে নেই—গুঞ্জন চাউর বাজারে।

লিভারপুলের জার্সিতে ১৭৩ ম্যাচে ১১০ গোল করেছেন সালাহ। এ মৌসুমেই করেছেন ১৬ গোল। গত দুই মৌসুম ধরে সালাহর সঙ্গে রিয়াল ও বার্সার নাম নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে বারবার। এবার কি সে গুঞ্জন বাস্তবে রূপ পাবে?

মিসরের হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলা আবুত্রিকা সতীর্থের অসন্তুষ্টির কারণ জানলেও বলতে রাজি নন। এবং তাঁর ধারণা, লিভারপুলও অসুখী সালাহকে সময় থাকতেই ছেড়ে দিতে চাইছে, ‘আমি জানি, সালাহ লিভারপুলে সুখী নয়। আমাকে সে তার অসন্তোষের কারণগুলো বলেছে। কিন্তু সেগুলো গোপনীয় এবং আমি প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলতে পারি না। সালাহর রাগ করার একটি কারণ হলো মিতিওলানের বিপক্ষে ওকে অধিনায়ক করা হয়নি। আমার ধারণা, লিভারপুল ওকে বিক্রি করে দিতে চায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.