মেসির জাদুতে সেমিতে আর্জেন্টিনা লক্ষ্য শিরোপা

আরেকটি অসাধারণ ম্যাচ আর্জেন্টিনার।আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে আর সমর্থকদের হার্টবিট বাড়বেনা তা কেমন করে হয়।নানাভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে,ব্যর্থ হবে,দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের খেলা মানেই এই চিত্রনাট্য। আজ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।এর পর সেই লিওনেল মেসিকেই কিছু না কিছু করতে হবে,মেসি একেকটা ম্যাচ খেলতে নামেন, একের পর এক রেকর্ড জমা হয় তার নামের পাশে।এবারের কোপা আমেরিকারতেই গড়েছেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে এই মহাদেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা পেলে। তার গোল ৭৭টি। ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলটির মাধ্যমে মেসির হলো ৭৬টি গোল।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দেয়া ৩ গোলের সবক’টিতেই সরাসরি অবদান রেখেছেন লিও। এরমধ্যে করেছেন ১টি গোল, ২টি অ্যাসিস্ট। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মেজর টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোল কন্ট্রিবিউশান (২০টি) এখন আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের।মেসিতে ভর করেই সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। তিনটি গোলেই ছিল মেসির অবদান। প্রথম দুটি গোল সতীর্থকে একদম পাতে তুলে দিয়েছেন। পরের গোলটি করেছেন দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে।

গোলের পরিস্থিতি সৃষ্টিও হয়েছে মেসির সুবাদে। মাঝমাঠে লওতারো মার্তিনেজের ব্যাক ফ্লিক থেকে বল পেয়ে মেসি একটা থ্রু বল দিয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেসের দিকে। ইকুয়েডর রক্ষণের সবাইকে এড়িয়ে বলের দিকে ছুটছিলেন গঞ্জালেস। তাঁকে আটকে বক্সের বাইরে ছুটে এসেছিলেন ইকুয়েডর কিপার গালিন্দেজ। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে আটকেও দিয়েছিলেন গালিন্দেজ। ধাক্কা খেয়ে গঞ্জালেস যখন মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছেন, তখন বল মেসির পায়ে। চাইলেই শট নিতে পারতেন কিন্তু মেসি করলেন যা শুধু মেসি চিন্তা করতে পারেন।

৮৪ মিনিটের গোলে এতটা নাটকীয়তা ছিল না। ডি-বক্সের একদম বাইরে বল খোয়ান ইকুয়েডরের হিনচাপি। বলটা পেয়ে গেলেন মেসি। বক্সের অন্যদিকে থাকা মার্তিনেজের দিকে বল পাঠিয়ে দিলেন এবারও সেই দৃশ্য। এতটা ফাঁকায় ছিলেন মার্তিনেজ যে বেশ সময় নিয়েই বল থামিয়ে গোলে শট নিলেন। ২-০ তে এগিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলে চাইলে একটু হলেও দাবি রাখতে পারেন বদলি নামা  দি মারিয়া।

দি মারিয়া  প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে চাপে ফেলে বল আদায়ের কাজটা করেছেন। তৃতীয় গোলেও পার্শ্ব চরিত্র দি মারিয়া। বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়ছিলেন পিএসজি উইঙ্গার। তাঁকে আটাকানোর জন্য ফাউল করে বসলেন দ্বিতীয় গোলের ভিলেন হিনচাপি।অবশেষে পেনাল্টি !

ভিএআর অবশ্য বাধা দিল সে সিদ্ধান্ত। রেফারিকে আরেকবার চেক করতে বললেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। রেফারি সেটা দেখে সিদ্ধান্ত বদলালেন। পেনাল্টি বক্সের একটু বাইরে হওয়ায় ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু কপাল পোড়ে হিনচাপির। বল আটকানোর কোন চেষ্টা না থাকায় এবং পেনাল্টি না হওয়ায় তাঁকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ফ্রি-কিক নিতে নিতে ৯৩ মিনিট। বক্সের একদম ওপর থেকে কিক নিলেন মেসি। বাঁকানো শটটি পোস্টের একদম কোনা ঘেষেঁ জালে ঢুকেছে। টুর্নামেন্টে মেসির চতুর্থ গোল ঠেকানোর কোনো উপায় ছিল না গালিন্দেজের।

আর্জেন্টিনা আজ আরও বড় ব্যবধানে মাঠ ছাড়তে হতো কিন্তু প্রথমার্ধে সুবর্ণ এক সুযোগ নষ্ট করেছেন ইকুয়েডর।আর এরি মধ্যেই আর্জেন্টিনার সামনে আরেকবার শিরোপা জয়ের সুযোগ।সেমিতে আর্জেন্টিনা পাচ্ছে প্রতিপক্ষ  কলম্বিয়াকে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *