২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে

সোমবার পিরোজপুরের নাজিরপুরে কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নাওটানা বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তাদের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, ওষুধের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়নি। খালি পেটে ওষুধ খেয়ে তারা গণহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলী আশ্রাফ জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী মৃণাল হালদার তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ান। এর আধা ঘণ্টা পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। প্রথমে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লক্ষ্মী রানী শিকদার অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু সময় পরে একই ক্লাসের সুমি শিকদার, সুমাইয়া আক্তার, লিজা আক্তার, ইভা সরকার, ইলা সরকার, সাকুরা কনা, সপ্তম শ্রেণির মানছুরা আক্তার, লামিয়া আক্তার, স্বর্ণা বড়াল, রামিয়া আক্তার, নার্গিস আক্তার ও দশম শ্রেণির মীম আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে একই বিদ্যালয়ের শিবানী হালদার, সাদিয়া আফরিন, অঞ্জলী রানী, ফাল্কগ্দুনী আক্তার, শিউলী আক্তার, লাইজু আক্তার, মানসুরা আক্তার, রিমা খানম, তন্বী খানম, সুমাইয়া খানম, তামান্না আক্তার ও আজাহার মল্লিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদেরও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার জানায়, কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পর তার প্রথমে বমি বমিভাব হয়। পরে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও হাত-পায়ে খিঁচুনি হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাকুরা খানম জানায়, কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রচণ্ড পেটব্যথা ও মাথা ঘুরানো অনুভব হয়। সে কয়েক বার বমিও করে।

খবর পেয়ে নাজিরপুর থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির অসুস্থদের দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলম জানান, এটি কৃমির ওষুধ খাওয়ার সমস্যা নয়। বিষয়টি ‘মাপ সাইকোজেনিক ইলনেস’ জনিত ঘটনা। একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় অন্যরা তা দেখে ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ জাতীয় সমস্যা একটু কাউন্সিলিং করলেই ঠিক হয়ে যাবে। বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়।

Are you happy ? Please spread the news

Leave a Reply

Your email address will not be published.