শিক্ষককে মারধরের পর কান ধরিয়ে ওঠ-বস করানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষককে মারধরের পর কান ধরিয়ে ওঠ-বস করানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর সেটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি গত ২৫ আগস্ট ধারণ করা। তবে কে বা কারা এটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটি অনেক লোক শেয়ার করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি বরিশাল নগরের রূপাতলী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মাস দু-এক আগে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পাঠদান শুরু হলে ওই শিক্ষককে খণ্ডকালীন অনলাইন পাঠদানের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

 

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রীকে বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব দেব না—শিক্ষককে দিয়ে এমন কথা বলাচ্ছেন কয়েকজন। এই কথা বলতে বলতে শিক্ষক কান ধরে ওঠবস করছেন। ভিডিওতে কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেলেও কাউকে দেখা যায়নি।

 

এ বিষয়ে রোববার রাতে কথা হয় ওই শিক্ষকের সঙ্গে। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো বেঁচে থাকার মতো কোনো অবস্থা নেই। যে অবস্থা তাতে আমি মুখ দেখাব কীভাবে?’ তাঁর ভাষ্য, ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়।

 

এর মধ্যে ইমতিয়াজ ইমন নামের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর স্ত্রী মনিরা আক্তার ছিলেন। তাঁরা ক্লাস ফাঁকি দিতেন এবং লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিলেন। তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বললে তাঁরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। উল্টো পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দিতে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন তাঁরা।

 

ঘটনার বিষয়ে ওই শিক্ষকের ভাষ্য, ‘২৫ আগস্ট দুপুরে আমি নগরের চৌমাথা দিয়ে একটি কাজে যাচ্ছিলাম। সেখানে ইমন ও তাঁর ৬ থেকে ৭ জন বন্ধু আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাঁরা আমার পথ রোধ করেন। কথা আছে বলে তাঁরা আমাকে পাশের নির্জন স্থানে যেতে বলেন। আমি যেতে চাইনি। তখন তাঁরা আমাকে জোর করে অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় নিয়ে যান।

 

একটি দোকানে বসিয়ে তাঁরা আমাকে নানাভাবে অপমান করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড় মারেন। লোকজন জড়ো হয়ে যেতে পারেন আশঙ্কায় তাঁরা সেখান থেকে আমাকে নগরের গোরস্থান রোডের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। আবার আমাকে মারধর করেন।

মারধরের একপর্যায়ে ইমন আমাকে কান ধরে ওঠ-বস করান। আমাকে দিয়ে ‘ক্লাসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করি, ভবিষ্যতে আর করব না’—এমন কথা বলিয়ে নেয়। একজন এগুলো মুঠোফোনে ধারণ করেন।

ইমন তখন তাঁর স্ত্রীকে সেখানে ডেকে আনেন। ক্ষমা চাইতে বলেন। অস্বীকৃতি জানালে আমাকে বিবস্ত্র করতে চান। তখন বাধ্য হয়ে আমি ইমনের স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাই।’

 

সোমবার সকালে যোগাযোগ করা হলে ইমতিয়াজ ইমন বলেন, ‘ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। প্রতিবাদ করায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাঁর কারণে আমার স্ত্রী এখনো পাস করতে পারেননি।

Are you happy ? Please spread the news