‘মহামারীর’ কারণ হয়ে উঠতে পারে নিপাহ ভাইরাস !

“নিপাহ ভাইরাস” ‘হুমকির’ কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।নিপা ভাইরাস প্রথম ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাস পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনও কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।সোমবার সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া নিপাহ ভাইরাস বিষয়ক এক সম্মেলনে সহ-আয়োজক কোয়ালিয়শন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস- সিইপিআই’র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হ্যাচেট জানান নিপাহ ভাইরাসের হুমকি সম্পর্কে। এটি (নিপাহ ভাইরাস) শনাক্তের পর ২০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু নিপাহ ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সমালানোর মতো পর্যাপ্ত উপকরণ এখনও বিশ্বে নেই।নিপাহ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই সময়টাতেই খেঁজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে তাদের লালা মিশে যায়। সেই বাদুড় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর ও মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এক পর্যায়ে খিচুনিও দেখা দিতে পারে। মস্তিস্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয়।নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে খেজুর গুড় ও রস, আখের রস, পেঁপে, পেয়ারা, বরইয়ের মতো ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।রোগতত্ত্ববিদ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক সংগঠন নিয়ে ২০১৭ সালে গড়ে ওঠা সিইপিআই মূলত নতুন, অজ্ঞাত রোগের প্রতিষেধক তৈরি ও উন্নয়নে কাজ করে থাকে। সংগঠনটি যেসব রোগ নিয়ে কাজ করছে, তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নিপাহ, যার ভাইরাসটি মূলত বাদুড় এবং শূকরের মাধ্যমে ছড়ায়। তাছাড়া এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের মাধ্যমে এবং দূষিত খাবার থেকেও ছড়াতে পারে।

Are you happy ? Please spread the news