ধর্ষিতাকে আবারো ধর্ষণ করে পুলিশ!

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার কুতুবখালী এলাকায় ধর্ষণের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আরেকবার ধর্ষণ করেছে পুলিশের এক কনস্টেবল। ভুক্তভোগী ছাত্রী পুলিশের সাহায্য চাইতে গিয়ে কনস্টেবল বাদলের দ্বারাও ধর্ষিত হন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, জয় ঘোষ (২৪) ও বাদল হোসেন (৩৪)

যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ বলেন, কনস্টেবল বাদল পুলিশের প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত। সে কোনো থানায় দায়িত্বরত নয়। বাদল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে থাকতো। বিভিন্ন ভিআইপিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো সে।

৭ এপ্রিল রবিবার পুলিশ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, আসামি জয় ঘোষের স্বভাব-চরিত্র ভালো না। প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছিলেন তিনি। অপর আসামি বাদল হোসেনও ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন।

ওসি কাজী ওয়াজেদ বলেন, তদন্তে পাওয়া যায় যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় এক বাসায় ওই তরুণীকে ফাঁদে ফেলে এনে ধর্ষণ করে কনস্টেবল বাদল।

ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা হয়ে গেছে। তার জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। যেখানে ধর্ষণ করা হয়েছিলো ওই কুতুবখালীর বাসার বিছানার চাদরটি জব্দ করা হয়েছে। সেটিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এখন কেবল ডিএনএ পরীক্ষা করা বাদ আছে। সেটিও সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে পুলিশ সদস্য বাদল কর্তৃক ধর্ষণের প্রাথমিক প্রমান আমরা পেয়েছি। ওই পুলিশ সদস্য ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাও ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন।

মামলার অন্য আসামি জয় ইতোমধ্যেই ধর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীও ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই কিশোরীর বয়স ১৬ বছর। মা-বাবার সঙ্গে ঢাকাতেই থাকে সে। ফেসবুকে জয় ঘোষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। তবে সম্পর্কে বিপত্তি ঘটে যখন অন্তরঙ্গ মুহুর্ত ভিডিও করে রাখে জয় ঘোষ।

বিস্তারিত তথ্য নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে ৩১ মার্চ রবিবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আসামি জয় ঘোষ। মেয়েটির মোবাইল ফোনে ধর্ষণের দৃশ্য ধারণও করেন ওই আসামি। পরে মেয়েটিকে তার মোবাইল ফোন না দিয়ে গুলিস্তান এলাকায় নামিয়ে দেয় ওই যুবক। গুলিস্তানে নেমে ভুক্তভোগী মেয়েটি ভয় পেয়ে পুলিশ কনস্টেবল বাদল হোসেনের কাছে ঘটনা খুলে বলে এবং সহায়তা চায়। বাদল তখন তাকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের আশ্বাস দেন এবং বাড়ি পৌঁছে দিতে চান। পরে ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বাদল নিয়ে যান যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাড়িতে। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন বাদল।

সূত্র জানায়, ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানা ও যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক ২টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

তবে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, আমাদের ইউনিটে সম্প্রতি কোনো পুলিশ কনস্টেবলের নামে ধর্ষণের মামলা হয়নি। শাহবাগ থানায় ওই রকম কোনো মামলা হয়নি।

Are you happy ? Please spread the news

Leave a Reply

Your email address will not be published.