কেরানীগঞ্জ কারাগারে ফাঁসি হবে মাজেদের প্রস্তুত রয়েছে জল্লাদের একটি দল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে আবেদন করেছিলেন।

তার সেই আবেদন খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি। ফলে তার দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকছে না। এদিকে আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রস্তুত রয়েছে জল্লাদের একটি দল।  যেকোনও সময় কার্যকর হতে পারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদের ফাঁসি

কারাগারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার অথবা রোববার ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা বেশি।  বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)  রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌঁছায়।

তবে  এদিন রাতে শবেবরাত এবং শুক্রবার কোনও ফাঁসি দেওয়ার নিয়ম না থাকায় শনিবার কিংবা রোববার মাজেদের ফাঁসি হতে পারে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এখন পর্যন্ত কোনও ফাঁসি কার্যকর হয়নি।  তবে মঞ্চটি সবসময় প্রস্তুত থাকে।  মাজেদই একমাত্র আসামি, তার এই কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হবে।

এর আগে মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।  বুধবার বিকেলে মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে এ আবেদন করেন। কারা কর্তৃপক্ষ আবেদনটি বিকেলেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়।

সেখান থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছানো হয়। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি বঙ্গভবনে পৌঁছার পরপরই তা খারিজ করে দেন রাষ্ট্রপতি। এটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের সামনে দণ্ড কার্যকরে বাধা থাকছে না।

প্র্রসঙ্গত, বুধবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল উদ্দিন চৌধুরী মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।  সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৪ বছর ৭ মাস ২১ দিন পর গ্রেপ্তার হন তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে খুন হন। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়। তাঁরা হলেন কারাগারে থাকা আসামি মেজর বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি পলাতক থাকেন। তাঁরা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ, রিসালদার মোসলেমউদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, আবদুল আজিজ পাশা ও ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। আজিজ পাশা ২০০২ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সবাইকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হত্যা করা হয়। কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেন।

এর মধ্যে ক্যাপ্টেন মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের অন্যতম একজন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মাজেদকে সেনেগালে বাংলাদেশ দূতাবাসে তৃতীয় সচিব পদে চাকরি দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী সরকার।

Are you happy ? Please spread the news