এমপি হারুনের জামিন আপিলেও বহাল

শুল্কমুক্ত গাড়ি বিক্রির দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুন অর রশীদকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এ জামিনের স্থগিত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।বুধবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

তার আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, এ আদেশের ফলে কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকা বিএনপির এমপির কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

এর আগে ২৮ অক্টোবর হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এ এমপিকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হারুন অর রশীদের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে এ আদেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৫০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড স্থগিত ও মামলার নথিপত্র তলব করা হয়।

হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক গতকাল আবেদন করে, যা চেম্বার বিচারপতির আদালত হয়ে আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। হারুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান, মাহবুবউদ্দিন খোকন ও হারুনের স্ত্রী আইনজীবী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া।

পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হবে।

২০০৭ সালে ১/১১ পট পরিবর্তনের পর ১৭ মার্চ তিন জনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলাটি করে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিচার শুরু করেন আদালত।

বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন হারুন অর রশীদ। সেদিন আদালত তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অন্য দুই আসামির সাজা হয়। এর মধ্যে চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমানকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই দুজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন এমপি হারুন অর রশীদ ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য থেকে একটি হামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করেন।

পরে গাড়িটি নিজে ব্যবহার না করে ইশতিয়াক সাদেকের মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে কম দামে এনায়েতুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। আইন অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি তিন বছরের আগে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হবে। কিন্তু হারুন সে শর্ত ভঙ্গ করে গাড়িটি বিক্রি করে দেন।

Are you happy ? Please spread the news