ইবির খেলোয়ার-শিক্ষদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করলো জাবির শিক্ষার্থীরা

আরমান রকি, ইবি প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু চ্যাম্প আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল-২০১৯ এর সেমিফাইনালে জাহাঙ্গীরনর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে   ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দেরকে বেধড়ক মারপিট করে রক্তাক্ত করে আহত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যানাযায়, (১০ এপ্রিল) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত খেলার এক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ও কোচের উপর অতর্কিত হামলা চালায় জাবি শিক্ষার্থীরা।

এতে করে মারাত্বকভাবে আহত হয় ইবির খেলোয়ারের। এদের মধ্যে ইমন ও রাব্বি নামের দুই খেলোয়াড়ের অবস্হা আশঙ্কাজনক । ইবির খেলোয়ার ও শিক্ষকদের গুরুতর আহত অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। 
এদিকে এঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানাগেছে।এছাড়া ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক ও হ্যান্ডবল দলের কোচ ড. মোঃ সোহেলকে প্রহার করে রক্তাক্ত করেছে ।  

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইবি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে তারপর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। অবরোধকারী শিক্ষার্থী বলেন, এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন,ন্যাক্কারজনক হামলার জন্য জাবি প্রশাসনকে লিখিত ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু চ্যাম্প থেকে ১০ বছরের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিটি ইভেন্ট থেকে অব্যহতি দিতে হবে। পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ দেখে এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে জাবি থেকে বহিষ্কার করতে হবে। 

আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আনিচুর রহমান এর আশ্বাসে ইবি শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। এ ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো। 

এই ঘটনায় ইবি ভিসি ড. রাশিদ আসকারী বলেন খেলার মাঠে একটি বর্বর মামলা। এই হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আমরা বিচার চেয়েছি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তারা যদি যথাযথ বিচার না করে আমরা বিচার চেয়েছি ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং এ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটির কাছে। জাহাঙ্গীরনগরে ইবি আর কখনও খেলতে যাবেনা। তারা খেলার মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

Are you happy ? Please spread the news

Leave a Reply

Your email address will not be published.